Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

যুদ্ধাপরাধ করেছে হুতিরা, পাল্টা হামলা সৌদির

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২১

যুদ্ধাপরাধ করেছে হুতিরা, পাল্টা হামলা সৌদির

সৌদি-হুতি সংঘাত মারাত্মক উত্তেজনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহু মানুষের হতাহতের ঘটনায় এই যুদ্ধ সৌদি ছাড়িয়ে জিসিসিভুক্ত অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাহলে এখন কী করবেন সৌদিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা? সেটি জানাবো আলোচনার শেষ অংশে, তার আগে জানাই কী ঘটেছে রিয়াদে।

সৌদি গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। আহতদের চিকিৎসা দিতে নজিরবিহীন সংকট মোকাবিলা করছে সৌদি আরব। রিয়াদের সব ডাক্তারদের দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডেকে পাঠানো হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, বেসামরিক যাত্রী টার্মিনালে হামলাটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধের প্রচলিত বিধিবিধানের অধীনে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’। তিনি একে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

জোটের যৌথ বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনেই এই হামলার কঠোর জবাব দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুতিদের ১৩৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব হামলায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদির পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। হামলার প্রতিবাদ জানান জাপান, আমেরিকা, ব্রিটেনসহ পৃথিবীর নানা দেশ।

এদিকে, এই হামলার পর, সৌদি যুবরাজের সাথে ফোনে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই যুদ্ধে হুতিদের শায়েস্তা করতে সৌদির সাথে অভিযানে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা।

সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বসবাস করেন। সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়লে তাদের নিরাপত্তা, কর্মস্থলে যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাস গত ১ অক্টোবর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি প্রবাসীদের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও হামলাস্থলের ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। গুজব ছড়ানো যাবে না; সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সন্ধ্যায় হামলা বা নিরাপত্তা সতর্কতা জারি থাকলে অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনলে জানালা থেকে দূরে সরে যান এবং জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

Logo