মক্কা চুক্তি কার্যকর, বড় যুদ্ধের শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৬
সৌদি আরবে হুতিদের
হামলায় বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরো বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। সৌদি
আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনী দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এতে ইরান-সংশ্লিষ্ট হুতিদের সঙ্গে সংঘাত কি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে? এই প্রশ্ন
যখন লক্ষ লক্ষ প্রবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তখনই সৌদি প্রবাসী এক বাংলাদেশির মৃত্যুর
খবর এসেছে।
গত ৪ অক্টোবর
সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন
হামলায় কুমিল্লার মো. সজিব হোসেন নিহত হন। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শোক প্রকাশ
করেছে। দূতাবাস তার মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে।
এখন জানা দরকার
মক্কা চুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ? চুক্তিটি কার্যকর হলে কী হতে পারে?
৫ অক্টোবর রিয়াদে
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জরুরি বৈঠকে তিন দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের
সিদ্ধান্ত হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মত সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত
সৌদিতে মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সেনার সংখ্যা, মোতায়েনের স্থান ও সুনির্দিষ্ট
দায়িত্ব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এটি সরাসরি
পাকিস্তান বা তুরস্কের ইয়েমেনে ঢুকে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার ঘোষণা নয়। তবে
সৌদির প্রতিরক্ষায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সংঘাতের পরিধি বাড়াতে পারে।
হুতিদের সঙ্গে
ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তানকে একদিকে সৌদির নিরাপত্তা সহযোগিতা, অন্যদিকে
প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক দুই দিকই সামলাতে হবে। এছাড়া পাকিস্তানের
ভেতর আছে বিপুল সংখ্যক শিয়া জনগোষ্ঠী। ফলে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ
রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও চাপ বাড়তে পারে।
এখন প্রশ্ন
ইয়েমেনিদের বৈধ হওয়ার সুযোগ কেন দিল সৌদি আরব?
যুদ্ধের উত্তেজনার
মধ্যেই সৌদি বাদশাহ সালমানের নির্দেশে দেশটিতে অনিয়মিতভাবে বসবাসরত সব ইয়েমেনি নাগরিকের
আবাসিক অবস্থান বৈধ করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ
কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমির অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈধ ইয়েমেনি পাসপোর্ট
থাকতে হবে; আবেদনের তারিখ ও শর্ত পরে জানানো হবে।
এই সিদ্ধান্তকে
একদিকে মানবিক সহায়তা, অন্যদিকে ইয়েমেনের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কূটনৈতিক
পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়। তবে এটি হুতিদের সঙ্গে সংঘাত কমে যাওয়ার প্রমাণ নয় বলেই মনে
করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা।
এখন সৌদিতে
বাংলাদেশিদের করণীয় কী হবে?
সংঘাত বাড়লে
তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ, বিমান চলাচল, কর্মক্ষেত্র ও প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনেও
পড়তে পারে। তবে সৌদি সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি
তুললে বা ভিডিও করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফলে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে প্রবাসী
বাংলাদেশিদের।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের
আতঙ্কিত না হয়ে দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ, জরুরি যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ
স্থাপনা থেকে দূরে থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
logo-1-1740906910.png)