Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

আবারো ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৬

আবারো ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা

ইরানে আবারো বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু এবার কী ইরানে স্থল অভিযানে নামবে মার্কিনিরা? আর তাই যদি হয়, ইরানের মাটিতে কি তাদের শেষ রক্ষা হবে? কী প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান? আজ তাই নিয়ে আলোচনা করব।

ইরানে আবারো বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলেছে, নতুন হামলা হলে শুধু ইরানের ভেতরেই নয়, গোটা অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক জবাব দেওয়া হবে।

কিন্তু একটি প্রশ্নের উত্তর সবাই জানতে চাইছে, তাহলে এবার কি ইরানের মাটিতে স্থল অভিযানে নামবে মার্কিন সেনারা?

ইরানে যখন নতুন করে যুদ্ধ শুরুর ঠান্ডা বাতাস বইছে, তখন এক প্রকার চুপচাপ আছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। যুদ্ধের বর্তমান তথ্য বলছে, নতুন যুদ্ধকে টার্গেট করে যুদ্ধ সরঞ্জাম জোগাড় যন্ত্রে ব্যস্ত আমেরিকা আর ইসরায়েল। তবে স্থল অভিযানে নেমে যাবে মার্কিনিরা- এমন সম্ভাবনার সরাসরি প্রমাণ কিন্তু এখনো নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ, বিমান শক্তি ও দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে চাপ বজায় রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিশাল ভূখণ্ডে পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধ শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার সামরিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। আল জাজিরার বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বিমান-নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধ বজায় রাখতে পারলেও ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারছে না।

অন্যদিকে, ইরান শিয়া সমর্থিত হুতিকে লেলিয়ে দিয়েছে সৌদির দিকে। রিয়াদের হামলাও চিন্তায় ফেলেছে সৌদিকে। মক্কা চুক্তি করেও হুতি ঠেকানার কৌশল ঠিক করতে পারছে না সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তান। 

তাহলে ইরান কি প্রস্তুতি নিচ্ছে?

তেহরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করছে না। দেশটিতে শুরু হয়েছে বড় ধরনের মাস মোবিলাইজেশন বা জনসম্পৃক্ত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি। ‘জানফাদা’ নামে প্রচার করে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করা হচ্ছে; আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ হাজারের বেশি ইউনিট বা ব্যাটালিয়ন গঠনের কথা জানিয়েছে। তবে নিবন্ধনের সংখ্যা নিয়ে ইরানের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, হরমুজ প্রণালী। ইরান বলছে, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালীটি আগের মতো খুলবে না। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমেছে। 

ইরান আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তেহরানের নতুন শর্তের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ অর্থ ছাড় এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ। একই সঙ্গে ইরান বলছে, প্রয়োজন হলে তারা আরো বড় ও কঠিন পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত। 

এদিকে সিরিয়ায় আলেপ্পোর কাছে একটি সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ এবং সৌদি আরবের দিকে হুতিদের হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে, সংঘাতটি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থলযুদ্ধ শুরু হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্রুত শেষ করা কঠিন হতে পারে; আর ইরানের জন্যও যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য হবে অত্যন্ত বড়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক দর-কষাকষিই বড় সমীকরণ। কাতার ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টা করছে।

অর্থাৎ, সামনে প্রশ্ন শুধু আমেরিকা হামলা করবে কিনা নয়; বরং হামলা হলে সেটি কতদূর যাবে, আর ইরান কীভাবে তার জবাব দেবে, সেটিই মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী সংকটের মূল নির্ধারক।

Logo