Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

মক্কার আকাশে হুতিদের ড্রোন? নতুন কোন যুদ্ধের হাতছানি?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৮

মক্কার আকাশে হুতিদের ড্রোন? নতুন কোন যুদ্ধের হাতছানি?

ইয়েমেনের যুদ্ধের ছায়া এবার সৌদির তেল অবকাঠামো পেরিয়ে এসে পড়েছে পবিত্র নগরী মক্কার আকাশে। প্রশ্ন হলো, এটি কি শুধু হুতিদের আরেকটি ড্রোন হামলা, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নতুন মোড়?

আসুন জেনে নিই, মক্কার আকাশে আসলে কী ঘটেছে?

১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন প্রতিরোধ করে ধ্বংস করা হয়েছে, পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই। এ সময় নিরাপত্তা সতর্কতাও জারি করে সৌদি আরব। সৌদি জোট এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা বলছে; হুতিরা অবশ্য মক্কাকে লক্ষ্য করে কোনো ড্রোন মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কিন্তু এই আক্রমণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ মক্কা শুধু সৌদি ভূখণ্ডের একটি শহর নয়, মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। ফলে মক্কার নিরাপত্তা নিয়ে যে কোনো ঘটনা সৌদি আরবের জন্য সামরিকের পাশাপাশি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংকটও তৈরি করে। মক্কায় আঘাত মানে তো গোটা মুসলিম দুনিয়ায় মানুষের প্রাণে আঘাত। 

মক্কা চুক্তি কি সৌদিকে সেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়নি?

৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, সেখানে বলা হয়েছে- তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু হুতিদের সৌদির তেল শোধনাগারে আঘাতের বেলায় তুরস্ক বা পাকিস্তানের কোনো নড়চড় দেখা যায়নি। 

তাহলে খামতিটা কোথায়?

মক্কা চুক্তিটিতে ‘আক্রমণ’ মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরক্ষার কথা বললেও হুতিদের মতো একটি অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা কতটা, সেটি পরিষ্কার নয়। পাকিস্তানও জানিয়েছে, বর্তমানে চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।

তাহলে সৌদির সামনে এখন নতুন সমস্যা কী?

একদিকে হুতিরা লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের দিকে চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সৌদির তেল অবকাঠামোও ঝুঁকিতে রয়েছে।পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি হরমুজ এড়িয়ে তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ; সাম্প্রতিক হামলায় সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই মুহূর্তে সৌদি কি ইসরায়েলের সহযোগিতার কথা ভাবছে?

এখানেই সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের মধ্যস্থতায় সৌদি ও ইসরায়েলের মধ্যে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। লক্ষ্য- হুতিদের অবস্থান, ড্রোন-মিসাইল সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া।

এটা কি সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সংকেত?

এ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আলোচনার বিষয় মূলত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও সৌদিকে সরাসরি যুদ্ধের বদলে গোয়েন্দা ও টার্গেটিং সহায়তা দিচ্ছে বলে রিপোর্ট এসেছে।তবে কি আমেরিকার কাছ থেকে পরমাণু কর্মসূচিতে সাহায্যের বিনিময়ে সৌদি ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক গড়তে চাইছে?   

যদি তাই হয়, তবে কি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে হুতি ইস্যুতে?

এক্ষেত্রে ঝুঁকির কয়েকটি স্তর তৈরি হয়েছে— ইয়েমেন, লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব, হরমুজ, ইরাক এবং সৌদির জ্বালানি অবকাঠামো। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকের খবরও এসেছে।

হুতি নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা?

স্থানীয় ইয়েমেন যুদ্ধ যদি সমুদ্রপথ, তেল অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সামরিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তাহলে সংঘাতের পরিধি দ্রুত বাড়তে পারে। হুতি হামলার জেরে সৌদি আরব ইউরোপে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। আর সেই কারণেই মক্কার আকাশে একটি ড্রোন শুধু একটি ড্রোন নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল জোট, প্রক্সি যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও নতুন সামরিক সমীকরণের বড় সতর্কসংকেত দিচ্ছে।

Logo