Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের দামামা! জড়ো করা হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ২৩:২৪

মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের দামামা!   জড়ো করা হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান

ছবি এআই দিয়ে বানানো

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের গর্জন। একের পর এক মার্কিন এফ-১৬ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে। আর আগে থেকেই বেশ কিছু যুদ্ধ বিমান জড়ো করে রাখা হয়েছে ইজরাইলে। 

২১ জুলাই ভোরেও ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার খবর এসেছে। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে। একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান এখন আমেরিকার বিরুদ্ধে সর্বাত্নক যুদ্ধের ময়দানে রয়েছে। 

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি—মার্কিন সেনা হত্যার জবাব এমনভাবে দেওয়া হবে, যা ইরান বহু বছর মনে রাখবে।এমন এক সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন হুমকি দিলেন, যখন ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার ছবি প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। সেনাদের হত্যার বদলা নিতে মরিয়া এখন আমেরিকা। 

ফলে,যুদ্ধ যেন আর কেবল সীমান্তে নয়, এখন তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে। প্রশ্ন হলো, এই যুদ্ধ কি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

আর্ন্তজাতিক বিশ্লেষকদের আশংকা সম্ভবত যুদ্ধ ছড়িয়ে যেতে পারে। তার কিছু কিছু ইঙ্গিত এখনই দেখা যাচ্ছে। সেই আলোচনায় পরে আসছি, তার আগে জানাই আরো বড় খবর। 

যুদ্ধের সমান্তরালেই বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমীকরণ। সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ইরানের মতো সৌদিও পরমাণু কর্মসূচির দিকে পা বাড়াচ্ছে। বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথে মার্কিন সমর্থনও পেয়েছে সৌদি আরব। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সৌদির জ্বালানি কর্মসূচি নয়; ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যও পাল্টে দিতে পারে। সৌদি মনে করছে, ইরান যদি পরমাণু শক্তি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে তাহলে ক্ষমতার ভারসাম্যের কারণেই সৌদিও বসে থাকবে না। সৌদির সাথে পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের সামরিক জোট করায় সেই সন্দেহ আরো জোরালো হচ্ছে। 

আবার পাকিস্তান ও কুয়েতের সামরিক জোটের সম্ভাবনা কেন আলোচনায় আসছে?

সৌদির মতো কুয়েতও নিজেদের রক্ষায় পাকিস্তানের সাথে সামরিক জোট করতে চাইছে। যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সমন্বয় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে অনেকেই ভবিষ্যতের অনিশ্চিত পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।যদি সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এই ধরনের সামরিক অংশীদারিত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারে। 

এদিকে ইরান-মার্কিন যুদ্ধ যে সীমানা ছাড়াচ্ছে,হুথিদের হুমকিই তা জানান দিচ্ছে।সৌদির জ্বালানি তেলে পরিবহন আটকে দিতে,ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরের আরেক চেক পয়েন্ট বাব আল মান্দেব অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ইয়েমেনের হুথিদের সাথে সৌদির পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠেছে ।

নতুন করে উত্তেজনা প্রবাসীদের জন্য কী অর্থ বহন করছে?

মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত লাখো প্রবাসীর জন্য এটি শুধু যুদ্ধের খবর নয়; এটি চাকরি, নিরাপত্তা, তেলের বাজার, আকাশপথ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িত।পরিস্থিতি যত দীর্ঘ হবে, ততই বাড়বে অনিশ্চয়তা। তবে এখনো কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আর যদি তা ব্যর্থ হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু এই অঞ্চলেই নয়, বিশ্বের অর্থনীতি এবং প্রবাসীদের জীবনেও দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হবে।

Logo