Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

ইরান যুদ্ধে আমেরিকার পিঠটান, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর টেলিফোন ঝগড়া

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১৭:৪৪

ইরান যুদ্ধে আমেরিকার পিঠটান, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর টেলিফোন ঝগড়া

ইরান যুদ্ধে আমেরিকার খেল খতম হওয়ার পথে। কারণ ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত সহযোগীদের বলে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনা নিহত না হলে আমেরিকা আর ইরান যুদ্ধে যাবে না। আর এটিই ইরানের কাছে স্পষ্ট বার্তা, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা আর খেলতে চাইছে না আমেরিকা। কিন্তু তারপরও থেমে নেই যুদ্ধের হুমকি। 

সেই আলোচনা খানিকটা বিস্তারিত জানাবো তার আগে আরো বড় খবর হলো, ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর মধ্যে হয়েছে তুমুল ঝগড়া। আরে সেটা যে ইরানের সাথে যুদ্ধ বিরতির ইস্যুতেই সেটা বলাই বাহুল্য। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চান যে কোনো মূল্যে ইরান নিশ্চিহ্ন হোক, যুদ্ধে যুক্ত থাকুক আমেরিকা। আর যুদ্ধটাও যেন চালু থাকে। আর সেই কারণে আমেরিকা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও লেবাননে যুদ্ধ বাড়িয়ে চলেছে ইসরাইল। 

এ অবস্থান ওয়াশিংটনের নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিলেও এখন তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সেসব কারণেই টেলিফোন আলাপে নেতানিয়াহুকে স্রেফ পাগল বলে একপ্রকার গালমন্দই করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে ট্রাম্পের সাথে নেতানিয়াহুর বাদানুবাদ। ফলে যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই খবরের বোমা ফাটিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো। খবরে উঠে এসেছে, ইরান-মার্কিন যুদ্ধের সময়ে ইরানে হামলা করতে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, সোমালিল্যান্ডে ঘাঁটি গেঁড়েছিল ইসরায়েল।

কিন্তু এখন যখন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ইরান যুদ্ধ আর টানতে চাইছেন না, এমনকি মুজতবা খামেনির সাথে দেখা করার সুযোগ পেলে নিজে ধন্য মনে করছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন কথাবার্তায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নেতানিয়াহু। কারণ ইসরায়েল জানে, যুদ্ধ থেকে আমেরিকা সরে গেলে, তারা একা কিছুই করতে পারবে না।এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসেও ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাস হয়েছে। 

এই যখন বাস্তবতা, তখন ৬ জুন সকালে আবারো বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানি ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহতের খবর দিয়েছে মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকম। ইরানের রাডার সিস্টেমে হামলার কথাও স্বীকার করেছে মার্কিন বাহিনী। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাল্টাপাল্টি এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে।

অন্যদিকে তেহরানও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পথে অগ্রসর হওয়া কঠিন হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দেশই আরেকটি বড় যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য সম্পর্কে সচেতন। তাই তারা সংঘাতকে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রাখতে চাইছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কমলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো দূর কী বাত?

Logo