ছবি - এআই দিয়ে বানানো
চলতি গরমের মৌসুমে এল নিনোর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তীব্র দাবদাহ, শক্তিশালী ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে সক্রিয় হওয়া ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে এ বছর বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের অনেক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতাও বাড়তে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরন বদলে দেয়। এর ফলে কোথাও অতিরিক্ত গরম, কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত, আবার কোথাও খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্বাভাবিক গরম সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠতে পারে। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে। মরু অঞ্চলে তীব্র গরমের সঙ্গে ধূলিঝড়ের ঘটনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে এসব দেশে আমাদের যেসব প্রবাসী ভাইয়েরা আছেন, যারা গরমের মধ্যে মরুভূমিতে কাজ করছেন, তাদের আরো সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এছাড়া ওমান, ইয়েমেন ও আরব সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে হঠাৎ বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঘটনাও দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। গত কয়েক বছরে দুবাই, ওমান ও সৌদি আরবের কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরো স্পষ্ট করেছে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে।
এদিকে, জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এল নিনোর প্রভাব এখন আগের তুলনায় আরো তীব্র হয়ে উঠছে। ফলে তাপপ্রবাহ, ঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোও আরো শক্তিশালী হচ্ছে। তারা এই অঞ্চলের দেশগুলোর সরকারকে আগাম প্রস্তুতি বাড়ানো, দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
logo-1-1740906910.png)