মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে সৌদি আরবের নতুন প্রস্তাব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২১:৩৪
ছবি - এআই দিয়ে বানানো
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধ করতে সৌদি আরব নতুন এক চুক্তির আলোচনা সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতাধর দেশ সৌদি আরব ইরানকে নন এগ্রিশন প্যাক্ট বা আক্রমণ করা হবে না এমন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।
সৌদি আরব ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি চুক্তির আদলে তার কাঠামো তৈরি করছে, যেটিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্ররা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো স্বাক্ষর করেছিল। যাতে শীতল যুদ্ধের সময়ের বড় দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা অনেকটা কমে গিয়েছিল।
সৌদি আরবের এই প্রচেষ্টা ইউরোপীয় রাজধানী ও ইইউ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমর্থন পেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন খবরই প্রকাশ পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ মাধ্যমে।
মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কূটনীতিবিদ জানিয়েছেন, এমন একটি চুক্তি উপসাগরীয় দেশগুলোত বটেই, ইরানও স্বাগত জানাবে। তবে এই নিয়ে কঠিন এক শর্ত দিয়েছে ইরানও। দেশটি বলছে, এমন চুক্তি হতে পারে। তবে তার আগে মধ্যপ্রাচ্যে বন্ধ করতে হবে মার্কিনি আর ইসরায়েলের সব ঘাঁটি। ফলে যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে এমন শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মানবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এখন ইরানের বিরুদ্ধে আমিরাতের রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ব্রিকস সম্মেলনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মাঝে বাদানুবাদের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে আমিরাতও সৌদির এই প্রস্তাবকে কীভাবে দেখছে তাও স্পষ্ট নয়। একই সাথে আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিরোধিতা করবে ইসরায়েল, এটা একপ্রকার নিশ্চিত।
সৌদির এই প্রস্তাব অনুসারে চুক্তিটি হরমুজ প্রণালীর মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো কীভাবে সামলাবে তা স্পষ্ট নয়। তেহরান এই জলপথের ওপর নিজের প্রভাব এখনো ধরে রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে যাতায়াতের জন্য টোলসহ নিজস্ব ব্যবস্থা আরোপ করেছে।
৪০ দিনের অসম যুদ্ধে ইরানকে বাগে আনতে একপ্রকার পেরেসানিই হয়েছে আমেরিকার। তবুও কোনো ফলাফল আসেনি।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপসাগরীয় দেশগুলোকে একযোগে ইরানের উপর আক্রমণের প্রস্তাব দিলেও সৌদিসহ আরো কিছু দেশ তা মেনে নেয়নি। এর মাঝেই সিআইএ খবর দিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ৭০ শতাংশ এখনো অক্ষত আছে।
তাই এখন ইরানকে পোষ মানাতে ট্রাম্প ছুটে গেছেন চীনে, সৌদিও আলোচনা শুরু করেছে ইরানের সাথে। আর সৌদির সাথে ইরানের নতুন চুক্তির আলোচনাই বলে দিচ্ছে, পাকিস্তানের দূতিয়ালিতে যে যুদ্ধ বিরতির আলোচনা চলছিল আমেরিকার, তার সাময়িক সলিল সমাধি ঘটে গেছে।
logo-1-1740906910.png)