Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

with video

ইরানের ইউরেনিয়াম কে নেবে? পরাশক্তির টানাটানি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১৫:২৭

ইরানের ইউরেনিয়াম কে নেবে? পরাশক্তির টানাটানি

ইরানের হাতে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে আবারা টানাটানি শুরু হয়েছে । প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো বলেই দিয়েছেন, প্রয়োজনে জোর করে হলেও, ইরানের ইউরেনিয়াম তিনি নিয়ে ছাড়বেন।

এই টানাটানির এক দিকে আমেরিকা-ইসরায়েল আর অন্যদিকে রাশিয়া।প্রশ্ন উঠেছে বিপুল পরিমাণ এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান কী হাত ছাড়া হতে দেবে? আর যদি হাতছাড়া হয়,তবে তা কার ঘরে যাবে ?

ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও কূটনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু। ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম যা ৬০ শতাংশ পরিশোধিত।যদিও ৬০ শতাংশ পরিশোধিত ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব নয়।কিন্তু বোম বানানো নয়,বিপদটি অন্য জায়গায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এই পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে পরমাণু বোমায় পরিণত করতে গেলে পরিশোধন করতে হয় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। ইউরেনিয়ামকে শূণ্য থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধন করতে লাগে বহু বছর,যার প্রক্রিয়াটি ও ভীষণ জটিল।কিন্তু আসল বিপদটি  আরো ভয়ংকর, ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পরিশোধন করতে সময় লাগে মাত্র ৭ দিন।আর তাই, এই মজুতকে পশ্চিমা দেশগুলো “ব্রেকআউট স্টকপাইল”  হিসেবে বিবেচনা করে।

রয়টার্স জানিয়েছে,যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েল— এই তিন পক্ষই কিন্তু এই মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির হাত থেকে সরিয়ে নিতে হবে।রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে তো তিনি বলেই দিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রই এটি নিয়ে নেবে।“ তিনি এও সতর্ক করে দিয়েছেন, জোরপূর্বক এই মজুত দখলের চেষ্টা হলে তার উত্তর হবে ভয়ানক।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইরান চাইলে এই ইউরেনিয়াম নিজেদের হেফাজতে নিতে প্রস্তুত।রাশিয়ার প্রস্তাব, ইউরেনিয়াম সেখানে নিয়ে গিয়ে তা কম সমৃদ্ধ জ্বালানিতে রূপান্তর করা যেতে পারে এবং পরে শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।এই প্রস্তাবকে রাশিয়া সংঘাত নিরসনের একটি বাস্তবসম্মত উপায় হিসেবে দেখছে। কিন্তু রাশিয়ার এই প্রস্তাব কী আমেরিকা মেনে নেবে? 

উত্তর,না।

 ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটন রাশিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি তাদের বা আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত কোন ব্যবস্থার অধীনে থাকুক। 

এ নিয়ে তবে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীরই বা কী ভাষ্য? 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ভংগিতেই বলেছেন, ইরানের হাতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকা পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হবে না।তাঁর মতে, ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে না নেওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলতে থাকবে। 

কথায় বলে,সবার সব রাব মানি,কিন্তু তাল গাছ আমার। ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে আমেরিকা, রাশিয়া, ইজরায়েল কথা চালাচালি করলেও, ইরান জানিয়ে দিয়েছে , ইউরেনিয়াম তারা হাতছাড়া করবে না। আর বর্তমান বাস্তবতায় ইউরেনিয়ামের এই মজুদ ইরানের প্রধান দরকষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।  

অর্থাৎ ইরানের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শুধু একটি পারমাণবিক উপাদান নয় বরং, এটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই ইউরেনিয়াম কার হাতে যাবে, সেটিই হয়তো নির্ধারণ করবে যুদ্ধ সত্যিই শেষ হবে কি না। 

Logo