ছবি - এআই দিয়ে বানানো
আবার যুদ্ধের শুরু নাকি চুক্তিতে যুদ্ধের সমাপ্তি? ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ নিয়ে এই যখন টানাপোড়েন, তখন ইরান সরকারের ভেতর গৃহদাহের খবর সামনে এসেছে। ইরান সরকারের ভেতরে বেকায়দায় পড়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও দেশটির স্পিকার গালিবাফ।
কোন্দল এমনই চরমে পৌঁছেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জন উঠেছে ইরান সরকারের অন্দর মহলে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহম্মদ বাঘের গালিবাফও পড়েছেন একই পরিস্থিতিতে।
আমেরিকার সাথে শান্তি আলোচনায় আব্বাস আরাগচি আর স্পিকার গালিবাফই ছিলেন সামনের কাতারে। কিন্তু প্রশ্ন আসছে, ঠিক কী কারণে এমন দ্বন্দ্ব যে আব্বাস আরাগচিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট?
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, আব্বাস আরাগচির ও গালিবাফের ওপর ক্ষেপেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আরাগচির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কথা শোনেননি ইরানি প্রেসিডেন্টের।
আমেরিকার সাথে শান্তি আলোচনার সময় কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।অভিযোগ উঠেছে, সেসব নির্দেশ মানেননি আব্বাস আরাগচি। শুধু তাই নয়, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ইরানের বিপ্লবী রেভ্যলুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান আহমেদ ভাহিদির নির্দেশে কাজ করেছেন আব্বাস আরাগচি। ঠিক এ কারণেই আরাগচির ওপর চটেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাছাড়া শান্তি আলোচনার সময়ের গত দুই সপ্তাহ এমন অনেক সিদ্ধান্ত আরাগচি নিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়নি বা তিনি গোপন করেছেন। অন্যদিকে স্পিকার গালিবাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আমেরিকার সাথে আলোচনার বিষয় হিসেবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করছিলেন, যাতে তিনি তিরস্কারের শিকার হন।
ফলে পাকিস্তানে আমেরিকার সাথে শান্তি আলোচনাসহ নানা কাজ কারবারে আরাগচি ও গালিবাফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইরান সররকারের ভেতরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ মহলে। এমন গুঞ্জনও উঠেছে, মাসুদ পেজেশকিয়ান তার ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা করেছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিকে সরিয়েও দেওয়া হতে পারে।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদপত্রগুলোর বিশ্লেষণ হলো, যুদ্ধকালীন সময়ে ইরান সরকারের ভেতরে মূলত মতবিরোধ ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আইআরজিসি প্রধান আহমেদ ভাহিদির মধ্যে। যুদ্ধের সময়ে নানা সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেননি পেজেশকিয়ান ও ভাহিদি।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের মতে, শান্তি আলোচনার কূটনৈতিক সংবেদনশীল সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়েছেন আইআরজিসির দিকে। আর এই অবস্থায় একপ্রকার নিজেকে কোণঠাসাই বোধ করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
এখন দেশটির ভেতরের এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হবে নাকি মিলিয়ে যাবে, তাই এখন দেখার বিষয়।
logo-1-1740906910.png)