Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

হরমুজের তলদেশে নজর ইরানের, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৩

হরমুজের তলদেশে নজর ইরানের, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা

ইরানের নজর এখন হরমুজ প্রণালীর নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবলের দিকে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এসব ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপসাগরীয় দেশগুলো বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী শুধু জ্বালানি তেলের গুরুত্বপূর্ণ রুটই নয়, এর নিচে ছড়িয়ে আছে ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবল নেটওয়ার্ক। ধমনি-শিরার মতো বিস্তৃত এসব ক্যাবল ছিঁড়ে গেলে এর প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে। হুমকির পাশাপাশি ইরানি গণমাধ্যম তাসনিমে এসব ক্যাবলের মানচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর নিচ দিয়ে যাওয়া এই ক্যাবলগুলোর মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ রক্ষা করছে। এসব অবকাঠামো আমাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের ডেটা ও এআই কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে গড়ে ওঠা প্রযুক্তি অবকাঠামোর ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেন, ভিডিও কল ও ইমেইল যোগাযোগও এসব ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে মেটা হরমুজের নিচ দিয়ে ক্যাবল সংক্রান্ত কিছু কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

এরই মধ্যে হরমুজের পানির নিচে মাইন পেতে ইরান কার্যত বৈশ্বিক মহলকে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত বন্ধ হলেও এসব মাইন অপসারণে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এতে বোঝা যায়, কৌশলগতভাবে কতটা প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে তেহরান।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে তার অবস্থান বারবার পুনর্বিবেচনা করছেন। একদিকে চাপ, অন্যদিকে কূটনৈতিক সুযোগ; এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য খুঁজছেন তিনি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিভিন্ন দেশে সফর করে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। রাশিয়া ও চীনও এই প্রক্রিয়ায় তেহরানের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে আসতে হবে এবং হরমুজ প্রণালীতে কোনো অবরোধ রাখা যাবে না। ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়টি পরবর্তী আলোচনায় তোলা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

এ অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। তবে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

Logo