হরমুজে এবার আমেরিকার অবরোধ, জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ার শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৫
ছবি - এআই দিয়ে বানানো
শীল-পাটার ঘষাঘষিতে যেমন মরিচের দফারফা হয়, তেমনি ইরান–মার্কিন দ্বন্দ্বে বিশ্বের নানা প্রান্তের সাধারণ মানুষের জীবন এখন চাপে পড়েছে। গ্রাম থেকে শহর, কসভো থেকে বাসাবো, তেহরান থেকে গুলিস্তান, মিলান থেকে গুলশান; সবখানেই এখন তেলের দাম নিয়ে হাহাকার। এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব।
ইরান-মার্কিন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো কঠোর অবস্থানে গেছেন। তার ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চল ঘিরেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।
সাধারণত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইরান। তবে অতীতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো কিছু দেশের জাহাজ চলাচলে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছেন হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো দেশের তেলবাহী জাহাজ বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে না, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তা ঠেকাবে। তাহলে কি এবার সমুদ্রপথেই শুরু হচ্ছে নতুন অবরোধ?
তেহরানের অর্থনীতির প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র ‘প্ল্যান বি’ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। এই কৌশলের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করা। কিন্তু এই চাপ কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে?
মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর খার্গ আইল্যান্ড, বন্দর আব্বাস, জাস্ক টার্মিনাল এবং বন্দর খোমেনি আংশিকভাবে কার্যত অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাস্তবে কি এই অবরোধ কার্যকর হচ্ছে?
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বা আশপাশের সমুদ্রপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। এমনকি ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের ইরানি বন্দরগুলোর ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা হবে। ফলে চারদিক থেকে ইরানের ওপর সমুদ্রপথে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই অবস্থায় ইরান কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে?
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই মন্তব্য কি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে?
আল জাজিরার খবরে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা জানিয়েছেন, যদি এই অবরোধের পাল্টা হিসেবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মানদেব প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তাহলে লোহিত সাগর থেকে ভারত মহাসাগরে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তখন কি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়বে?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের টানাপোড়েন চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সব মিলিয়ে হরমুজ ঘিরে অবরোধ-পাল্টা অবরোধের এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরো অস্থির করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।
logo-1-1740906910.png)