Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

ইরানের বুশেহেরে হামলায় তেজস্ক্রিয় আতঙ্ক, ঝুঁকিতে প্রবাসীরাও

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১১

ইরানের বুশেহেরে হামলায় তেজস্ক্রিয় আতঙ্ক, ঝুঁকিতে প্রবাসীরাও

ছবি - এআই দিয়ে বানানো

ইরানের বুশেহের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিলে হামলার ঘটনায় এই স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হলে শুধু ইরান নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বুশেহের হামলার পর সেখান থেকে সরে গেছে রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটমের কর্মীরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছে, বুশেহেরে যদি তেজস্ক্রিয় ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তেহরান নয়, হুমকির মুখে পড়বে, উপসাগরীয় দেশগুলোর বাসিন্দারা। কিন্তু তিনি কেন এমনটি বলেছেন?

বুশেহের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান একেবারে হরমুজের প্রান্তে। সাগরটির অপর পারে আরব দেশগুলোর বড় বড় শহরের অবস্থান, কাতারের দোহা, আমিরাতের আবুধাবি, বাহরাইনের মানামা। আর সেখানে কাজ করেন লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি।   

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি রিঅ্যাক্টর বা ব্যবহৃত জ্বালানির সংরক্ষণ অংশে আঘাত লাগে, তাহলে বাতাস ও সমুদ্রপথে রেডিও অ্যাকটিভ পার্টিকেলস ছড়িয়ে খাদ্য, পানি ও মাটিতে দীর্ঘমেয়াদি দূষণ তৈরি হতে পারে। উপসাগরের পানি দূষিত হলে সবচেয়ে বড় সংকট হবে পানি শোধনাগারনির্ভর দেশগুলোতে। কারণ অনেক আরব দেশই সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাবার পানি সংগ্রহ করে।

আইএইএ আগেই সতর্ক করেছে, বুশেহেরে বড় হামলা হলে কয়েকশ কিলোমিটারজুড়ে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এতে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, আরব আমিরাত ও সৌদি আরব পর্যন্ত প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বর্তমান বাস্তবতার কথা তুলে ধরে ২০১১ সালের জাপানের ফুকুসিমা এবং ১৯৮৬ সালের রাশিয়ার চেরেনবিল পরমাণু দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

এখন,প্রশ্ন এসব দেশে থাকা বাংলাদেশিরা কতটা ঝুঁকিতে? বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সৌদি আরবে ৩৫ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১০ লাখ, কাতারে প্রায় ৪ লাখ, কুয়েতে প্রায় ৩ লাখ, বাহরাইনে দেড় লাখের বেশি এবং ওমানে আরো কয়েক লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। অর্থাৎ বুশেহের ঘিরে যে কোনো তেজস্ক্রিয় বা পরিবেশগত সংকট সরাসরি বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে উদ্বেগে ফেলতে পারে।

যদিও এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবুও আশঙ্কা থেকেই যায়, উপসাগরের পানিতে দূষণ ছড়ালে মাছ, খাদ্য সরবরাহ, এমনকি পানীয় জলের ওপরও চাপ পড়বে। এতে শিল্প, নির্মাণ ও সেবা খাতেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যেখানে সবচেয়ে বেশি কাজ করেন আমাদের দেশের প্রবাসীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়া, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সব পথ খোলা রেখে নিজেদের প্রস্তুত করে রাখা।

Logo