বিমান-জেট খোয়াচ্ছে আমেরিকা, ক্ষতি বেসুমার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩৬
প্রতিকি ছবি - এই দিয়ে বানানো
পচা শামুকে পা কাটছে আমেরিকার; দর্প চূর্ণ বুঝি একেই বলে। যেমনটা ঘটেছিল ভিয়েতনামের বেলায়, তেমনটিই কি ধীরে ধীরে ঘটতে যাচ্ছে ইরানের সাথে যুদ্ধে?
ইরানকে এক তুড়িতেই উড়িয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিল আমেরিকা।কিন্তু বিধি বাম। এখন একের পর এক যুদ্ধ বিমান হারাতে হচ্ছে আমেরিকাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুটি এফ ১৫ জেট বিমান ইরানের আকাশসীমায় ফেলে দিয়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে যুদ্ধের এক মাস পেরিয়েছে, ইরানে সরকার পতনও হয়নি, হরমুজের দখলও নিতে পারেননি ট্রাম্প। ইরানকে হাল্কাভাবে নিতে গিয়ে মরুতে রক্ত ক্ষরণ সইতে হচ্ছে মার্কিনিদের। বলা যায়, অহংকারের কারণে পতনের মুখে পড়েছে আমেরিকা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে আকাশে আধিপত্য ধরে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের এখন ৩ বিলিয়ন ডলার গচ্চা গেছে। আর একই সঙ্গে চাপে পড়েছে ইসরায়েলের বহুস্তর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দাবি করা তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, আটটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি ট্যাংকার, দুটি ই-৩ডি আকাশ সতর্কতা বিমান এবং দুটি এফ-৩৫ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাথে ১৬টি এমকিউ-৯ ড্রোন হারানোর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান কুয়েতের আকাশে ধ্বংস হয়েছে। ভুল করে কুয়েত এসব ফেলে দিয়েছিল। সৌদি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক কেসি-১৩৫ জ্বালানি বিমান।
সবচেয়ে কৌশলগত ক্ষতি হয়েছে ই-৩ডি আকাশ নজরদারি বিমানে; একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস, আরেকটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ নজরদারিতে ঝামেলায় পড়ে গেছে আমেরিকা।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের বহুস্তরের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও প্রবল চাপের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরানের টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় Arrow interceptor দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটি এখন তার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্র কম করে ব্যবহার করছে। কিছু ক্ষেত্রে আয়রন ডোম, ডেভিড'স স্লিং এবং মার্কিন থার্ড থাকা সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্র ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে হাইফা, ডিমোনা, আরাদ ও মধ্যাঞ্চলে কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে আঘাত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ আরো বেশি দিন চললে প্রতিরোধ ব্যূহে আরো ফাঁক তৈরি হতে পারে। যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের খেলা নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি কৌশল আর মনোবলের লড়াই। ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার অস্ত্রের অভাব ছিল না, কিন্তু ক্ষয়ে গিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। দামি সব বিমান আর জেট খুইয়ে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এখনো হাসিল না হওয়ায় ইরান যুদ্ধও কী আমেরিকানদের সেদিকেই টানছে? সেই প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলে।
logo-1-1740906910.png)