Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

অস্ট্রেলিয়ার কঠিন ভিসানীতি : বাংলাদেশি ছাত্রদের করণীয় কী?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৫

অস্ট্রেলিয়ার কঠিন ভিসানীতি : বাংলাদেশি ছাত্রদের করণীয় কী?

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পাওয়ার নিয়ম কঠিন করে দিয়েছে। তাই বলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ভিসা পাবে না- এমন কিন্তু নয়। ইমিগ্রেশন এজেন্টরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবুও যদি নিয়ম-কানুন ঠিক মতো মানা যায়, তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এখন জানা দরকার কী কী পরিবর্তন এসেছে অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা আবেদনে। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী কী কাজ সুচারুভাবে করা জরুরি।

আগে অনেক নথি তুলনামূলক সহজভাবে জমা দিলেই চলত। কিন্তু এখন প্রতিটি তথ্যের পেছনে অকাট্য প্রমাণ দিতে হবে। বিশেষ করে তহবিলের উৎস,ব্যাংক হিসাবের স্বচ্ছতা আর আয়ের উৎসের মতো বিষয়গুলোতে আগে থেকে অনেক বেশি প্রস্তুতি থাকতে হবে। যেমন-

তহবিল বা টাকার উৎস: ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার বয়স কম হলে (মোটে ৬ মাসের বেশি প্রয়োজন), তার ব্যাংক লেনদেনের সঠিক প্রমাণ দেখাতে হবে। নগদ লেনদেন আর শোধ নথি এখানে মানা হবে না।

পরিবারের আয় ও ব্যয়: আয়ের সব তথ্য ব্যাংক স্লিপ বা বিবরণী হিসেবে থাকতে হবে। নগদ আয় বা ঘোষণা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়।

কাজের অভিজ্ঞতা: যদি আবেদনকারী শিক্ষার্থী পূর্বে কাজ করে থাকে, তাহলে বেতন/স্লিপ ও কর তথ্য দিতে হবে। ব্যাংক লেনদেন ছাড়া সেটা যাচাই হবে না।

এখন আসি ভিসা সাক্ষাৎকারে: আগামীতে ভিসার সাক্ষাৎকার হবে আরো দীর্ঘ ও বিস্তারিত। শুধু কোর্স বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা নয়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কেন সে ওই দেশ ও কোর্স বেছে নিয়েছে এসবও জিজ্ঞাসা করা করা হতে পারে।

এখন নতুন প্রশ্ন ওঠে- এই নতুন শর্তাবলি শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী সমস্যা তৈরি করবে?

নতুন নিয়মে কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশি আবেদনকারীরা। যেমন-

ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বাড়বে: ছোটখাটো ত্রুটিও ভিসা বাতিলের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সময় আর খরচ বাড়বে: প্রতিটি নথি ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় সাপেক্ষ।

টাকা-পয়সার হিসাব হারানো শিক্ষার্থীর বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা: বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে জমি বিক্রি বা ব্যবসায় নগদ লেনদেন হয়। ব্যাংক ট্রান্সফার ছাড়া এসব নথি ভিসা আবেদনকে দুর্বল করবে।

সাক্ষাৎকারের চাপ: ইংরেজিতে দক্ষ না হলে বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারলে সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন হবে।

এবার দেখা যাক, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা কীভাবে সফল হতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক প্রস্তুতি ও স্বচ্ছ নথি থাকলে এখনো ভিসা পাওয়া সম্ভব।

প্রতিটি লেনদেনের ব্যাংক রশিদ বা ডিজিটাল ট্রানজেকশনের রেকর্ড রাখা জরুরি। হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা জমা না দিয়ে ধীরে ধীরে ব্যাংক হিসাব সচল রাখা ভালো। সাক্ষাৎকারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স, শহর আর ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা নিয়ে গভীরভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ভালো এজেন্ট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত প্রতিনিধি থেকে গাইডেন্স নেওয়া উচিত।

সার্বিকভাবে বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভিসা নীতিমালা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতির সুযোগ উভয়ই তৈরি করেছে। এখন শুধু মেধা নয়, নথিপত্রের স্বচ্ছতা ও প্রমাণের ক্ষমতাই হতে পারে ভিসা পাওয়ার চাবিকাঠি।

Logo