Logo
×

Follow Us

এমসি এক্সপ্লেইনার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দরকষাকষি, নাকি যুদ্ধ দ্বারপ্রান্তে?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩২

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দরকষাকষি, নাকি যুদ্ধ দ্বারপ্রান্তে?

ইরান বলছে তাদের ‘ট্রিগারে আঙুল’ রাখা আছে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে নৌবহর পাঠাচ্ছেন তিনি। তবে কি আবারো যুদ্ধের খেলা শুরু হলো মধ্যপ্রাচ্যে, নাকি মাঝখানে তেহরান-ওয়াশিংটনে দরকষাকষি চলছে? 

যুদ্ধের হুংকার আসছে দুই পক্ষ থেকেই। একদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হুঁশিয়ারি ‘ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে’। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ চীন সাগর থেকে বৃহৎ নৌবহর আব্রাহাম লিংকনকে ইরানের দিকে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর সাথে আছে ‘বড় এক সেনাদল’।

কিন্তু এসব শক্ত বার্তার মাঝেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, তেহরান এখনো আলোচনায় আগ্রহী। তাহলে প্রশ্ন হলো- এটা কি যুদ্ধের প্রস্তুতি, নাকি চাপ বাড়িয়ে দরকষাকষির কৌশল?

কেন আবার ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে?

এর পেছনে বড় কারণ ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে বড় চাপে ফেলে। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে রূপ নেয়। কঠোর দমন অভিযানের মাধ্যমে আন্দোলন আপাতত স্তিমিত হলেও হাজার হাজার মানুষের নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কেন এত কড়া ভাষায় আমেরিকাকে সতর্ক করল?

এই প্রেক্ষাপটেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, বাহিনী এখনো ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ প্রস্তুত। তার ভাষায়, ১২ দিনের ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ থেকে শিক্ষা না নিলে প্রতিপক্ষকে ‘আরো বেদনাদায়ক ও অনুশোচনামূলক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। ইরানের বক্তব্য স্পষ্ট- দেশের ভেতরের অস্থিরতা কাজে লাগিয়ে বাইরের শক্তি যদি চাপ বাড়ায়, তার জবাব দিতেও তারা প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্র কেন নৌবহর ও সেনাদল পাঠানোর কথা বলছে?

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম শেষে দেশে ফেরার পথে ট্রাম্প জানান, ইরানের দিকে একটি ‘বড় নৌবহর’ এবং ‘বড় সৈন্যদল’ এগোচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি সরাসরি হামলার ঘোষণা নয়, বরং নিবিড় নজরদারির অংশ। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি চাই না যুদ্ধ হোক, কিন্তু আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি।”

এই শক্ত অবস্থানের মধ্যেও কি আলোচনার সুযোগ আছে?

আশ্চর্যজনকভাবে, উত্তরটি হ্যাঁ। ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান এখনো আলোচনায় বসতে পারে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, সামরিক বিকল্প খোলা রাখলেও হোয়াইট হাউস এখনো কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। এমনকি ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই ইরান কয়েকশ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে, যাকে তিনি ‘ভালো ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছেন।

শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ, নাকি দরকষাকষি?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের ‘চিকেন গেম’। ইরান শক্ত অবস্থান দেখিয়ে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়, আর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ বাড়িয়ে আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। আপাতত তাৎক্ষণিক যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমলেও ভুল হিসাব বা হঠাৎ কোনো উসকানি পরিস্থিতিকে দ্রুত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন শুধু তেহরান-ওয়াশিংটনের বিষয় নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যই বড় এক উদ্বেগ।

Logo